চার্ট

সোনার গুণমান যাচাই

আসল সোনা চেনার উপায়

আসল সোনা চেনার পদ্ধতি

নকল বা কম ক্যারেটের সোনা কিনে প্রতারিত হওয়া এড়াতে সোনার গুণমান যাচাই জরুরি। এখানে সহজ ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিগুলো দেওয়া হলো।

১. হলমার্ক পরীক্ষা (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য)

বিএসটিআই হলমার্ক সোনার বিশুদ্ধতার সরকারি প্রমাণ। প্রতিটি হলমার্কযুক্ত সোনার অলংকারে তিনটি চিহ্ন খোদাই থাকে:

  • বিএসটিআই লোগো: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন
  • ক্যারেট নম্বর: ২২K (৯১.৬% বিশুদ্ধ) বা ২১K (৮৭.৫% বিশুদ্ধ)
  • জুয়েলারের কোড: শনাক্তকরণ চিহ্ন

হলমার্ক সোনা কিনলে আপনি ১০০% নিশ্চিত যে সোনার বিশুদ্ধতা সঠিক। হলমার্কের সার্টিফিকেট চাইতে ভুলবেন না।

২. ম্যাগনেট টেস্ট (বাড়িতে করা যায়)

আসল সোনা ম্যাগনেটিক নয়। একটি শক্তিশালী চুম্বক সোনার কাছে আনুন। যদি লেগে যায়, তাহলে এতে লোহা বা নিকেল মেশানো আছে। তবে এই পদ্ধতি ১০০% নির্ভরযোগ্য নয়।

৩. ভিনেগার টেস্ট

একটি পাত্রে সাদা ভিনেগার ঢেলে সোনা ৫-১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। আসল সোনার রঙ পরিবর্তন হবে না। নকল সোনা বিবর্ণ হবে বা কালো হবে।

৪. স্ক্র্যাচ টেস্ট (সিরামিক টাইলে)

একটি অমসৃণ সিরামিক টাইল নিন। সোনা টাইলে ঘষুন। আসল সোনা থেকে সোনালী রেখা পড়বে। নকল সোনা কালো বা ধূসর রেখা ফেলবে।

৫. পানি টেস্ট (ঘনত্ব পরীক্ষা)

একটি গ্লাসে পানি নিন। সোনা ছেড়ে দিন। আসল সোনা তলায় দ্রুত ডুবে যাবে কারণ এর ঘনত্ব বেশি। হালকা সোনা বা ভাসমান সোনা নকল।

৬. নাইট্রিক এসিড টেস্ট (পেশাদার পদ্ধতি)

জুয়েলাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন। সোনায় এসিড লাগালে আসল সোনার কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না। নকল সোনা সবুজ হয় বা দ্রবীভূত হয়। তবে এটি বাড়িতে করবেন না, বিপজ্জনক।

৭. ওজন ও আকার পরীক্ষা

সোনা খুবই ঘন ধাতু। একই আকারের অন্য ধাতুর চেয়ে ভারী হবে। সন্দেহ হলে ইলেকট্রনিক স্কেলে মাপুন।

৮. শব্দ পরীক্ষা

আসল সোনা শক্ত পৃষ্ঠে ফেলে দিলে উঁচু, ঝনঝন শব্দ হয়। নকল সোনা নিস্তেজ বা গুমগুম শব্দ করে।

৯. পেশাদার টেস্টিং

বড় কেনাকাটার আগে বিএসটিআই অনুমোদিত ল্যাবে টেস্ট করান। খরচ ৫০০-২০০০ টাকা হতে পারে তবে নিশ্চিততা পাবেন।

মনে রাখবেন

  • • সবসময় হলমার্কযুক্ত সোনা কিনুন
  • • বিশ্বস্ত জুয়েলারি দোকান থেকে কিনুন
  • • রসিদ ও সার্টিফিকেট সংরক্ষণ করুন
  • • সন্দেহ হলে দ্বিতীয় মতামত নিন
  • • বাড়িতে এসিড টেস্ট করবেন না